ঢাকা | বঙ্গাব্দ

59895587

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 3, 2026 ইং
59895587 ছবির ক্যাপশন: কর্মীদের ধর্মঘটে কানাডার ওয়েস্টজেটের শত শত ফ্লাইট বাতিল
ad728
কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমান সংস্থা ওয়েস্টজেটের কেবিন ক্রুরা দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত গ্রীষ্মকালীন ছুটির সপ্তাহান্তে ধর্মঘটে গেছেন। বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, রবিবার ভোর পর্যন্ত প্রায় ৬০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ধর্মঘটের মূল কারণ বেতন সংক্রান্ত বিরোধ। বিশেষ করে বিমান আকাশে ওড়ার আগে তারা যে কাজ করেন, সেই সময়ের পারিশ্রমিক নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিমান চলাচল খাতে এই পারিশ্রমিককে ‘গ্রাউন্ড পে’ বলা হয়। ক্যালগারিভিত্তিক ওয়েস্টজেট কানাডা ও বিশ্বের ১৩০টির বেশি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে।সংস্থাটি বলেছে, তারা আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং এমন একটি সাময়িক চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, যেখানে ওয়েস্টজেটের কেবিন ক্রুদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি থাকবে। আপনি যদি ভ্রমণ করেন, তাহলে এই পরিস্থিতির কারণে কী হতে পারে, তার বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো।ইউনিয়নের দেওয়া ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘটের নোটিশ রবিবার স্থানীয় সময় রাত ২টা ১ মিনিটে শেষ হয়। তখন দেশের বেশির ভাগ এলাকায় দীর্ঘ ছুটির সপ্তাহান্ত চলছিল।গত মাসে ইউনিয়নের সদস্যরা ৯৯ শতাংশ ভোট দিয়ে ধর্মঘটের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিলেন। আলোচনা চলার মধ্যেই শুক্রবার থেকে ওয়েস্টজেট ফ্লাইট বন্ধ রাখার প্রস্তুতি শুরু করে। রবিবার শ্রমিক আন্দোলন শুরু হলেও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলতে থাকে। কানাডার কর্মসংস্থানমন্ত্রী প্যাটি হাজদু রবিবার এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ধর্মঘটকে 'হতাশাজনক ঘটনা' বলে উল্লেখ করেন। তিনি দুই পক্ষকে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।তবে বিরোধ শেষ করতে অটোয়া সরকার হস্তক্ষেপ করবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। এর আগে এমন পরিস্থিতিতে সরকার হস্তক্ষেপ করেছে। গত বছর এয়ার কানাডার ধর্মঘটের সময়ও এমন হয়েছিল। ওয়েস্টজেট রবিবার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়া হবে অথবা অন্য ফ্লাইটে ব্যবস্থা করা হবে। ওয়েস্টজেট জানিয়েছে, রবিবার সকাল পর্যন্ত ৬০০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে যাত্রীদের নিজেদের ফ্লাইটের অবস্থা দেখে নিতে বলা হয়েছে। ওয়েস্টজেট এনকোরের কিউ৪০০ বিমানে পরিচালিত ফ্লাইট এবং অন্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত ওয়েস্টজেটের ফ্লাইট এই সম্ভাব্য শ্রম বিরতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।কানাডার বিমানযাত্রী আইন অনুযায়ী, কোনো ফ্লাইট বাতিল হলে বিমান সংস্থাকে যাত্রীদের পরবর্তী পাওয়া যায় এমন ফ্লাইটে তুলে দিতে হবে। এটি নিজেদের বিমান বা অংশীদার সংস্থার বিমান হতে পারে। দুটির কোনোটিই না পাওয়া গেলে প্রতিযোগী অন্য কোনো বিমান সংস্থার ফ্লাইটে ব্যবস্থা করতে হবে। কানাডার অলাভজনক ভোক্তা সংগঠন এয়ার প্যাসেঞ্জার রাইটস জানিয়েছে, ধর্মঘট শুরু হয়ে গেলে যাত্রীর অধিকার নির্ভর করবে তার ভ্রমণ পরিকল্পনার ওপর। যাত্রীরা বিনা খরচে যেকোনো বিমান সংস্থার পরবর্তী ফ্লাইটে যেতে পারবেন। এর মধ্যে প্রতিযোগী সংস্থার ফ্লাইটও থাকতে পারে।

অথবা বাতিল হওয়া ফ্লাইটের কারণে ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিলে যাত্রীরা পুরো টাকা ফেরত চাইতে পারবেন। একই সঙ্গে বিমান সংস্থাকে বিনা খরচে যাত্রীদের মূল যাত্রাস্থলে ফিরিয়ে দিতে হবে। তবে সংগঠনটি সতর্ক করেছে, যাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় কেউ আগে থেকেই নিজের ফ্লাইট পরিবর্তন বা বাতিল করলে কিছু ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার নাও থাকতে পারে। যেসব যাত্রী আটকে পড়েছেন, তারা বিমান সংস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং নিরাপত্তাজনিত নয় এমন বিলম্বের জন্য কিছু ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রাখেন।ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ও ওয়েস্টজেট ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। কিউপিই ৮১২৫ ইউনিয়নের সভাপতি আলিয়া হুসেইন বলেন, 'কী কী পরিবর্তন দরকার, তা আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি। একটি ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি।' তিনি বলেন, বিমান চলাচলে সমস্যা তৈরি না করেই চুক্তিতে পৌঁছানো ছিল ইউনিয়নের লক্ষ্য। রবিবার ধর্মঘট শুরু হওয়ার সময় ইউনিয়নের ওয়েবসাইটে শুধু লেখা ছিল, 'ধর্মঘট চলছে'। সেখানে একটি হিসাব দেখানো হচ্ছিল, যেখানে বলা হয়েছে ওয়েস্টজেটের কেবিন ক্রুরা ২১৩ দিন ধরে, ঘণ্টা ও মিনিটসহ, কোনো বৈধ যৌথ চুক্তি ছাড়া কাজ করছেন। বেতনের বিষয়টি বড় বিরোধের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউনিয়নের দাবি, বিমান ওঠার আগে করা কাজের জন্য ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মাসে ৩৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে হয়।

ইউনিয়নের একটি প্রচারমূলক ওয়েবসাইটে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা বলেন, 'যাত্রী ওঠানো, নিরাপত্তা পরীক্ষা, যাত্রীদের সহায়তা করা এবং মাটিতে অপেক্ষার সময়—সবকিছুর খরচ আমাদের নিজেদের বহন করতে হচ্ছে।' ওয়েস্টজেট তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে, ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা এমন সময়ের ভিত্তিতে পারিশ্রমিক পান, যা বিমান গেট ছাড়ার পর শুরু হয় এবং পরবর্তী গেটে পৌঁছানোর পর শেষ হয়। সংস্থাটি বলেছে, উত্তর আমেরিকার কেবিন ক্রুদের জন্য এটাই প্রচলিত বেতন পদ্ধতি। বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্ধারিত ঘণ্টাভিত্তিক বেতন ব্যবস্থায় বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের আগের কাজের পারিশ্রমিকও অন্তর্ভুক্ত থাকে। ওয়েস্টজেটের তথ্য অনুযায়ী, কেবিন ক্রুরা প্রতি ঘণ্টায় ২৮ কানাডিয়ান ডলার (২০ ডলার; ১৫ পাউন্ড) থেকে ৫৮ কানাডিয়ান ডলার (৪১ ডলার; ৩১ পাউন্ড) পর্যন্ত আয় করেন।
 


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনের প্রহর

কমেন্ট বক্স
বৃহত্তর খুলনার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজলাল কল

বৃহত্তর খুলনার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজলাল কল